|
মোজাহেদুল ইসলাম, বিভাগীয় সম্পাদক, তথ্যপ্রযুক্তি, দৈনিক ইত্তেফাক; ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ই-বিজ এবং জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ আইসিটি জেনারেল ফোরাম এর এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ এটিএন বাংলার আইটি জোন অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয় ২০-০৫-২০০৯ বুধবার, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। ইন্টারভিউ-এর সারসংক্ষেপ -

বাংলাদেশের আইটি শিল্পে প্রিন্ট মিডিয়ার বর্তমান ভূমিকা কি রকম?
এক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে দেশের আইসিটি শিল্পে। এর সব চেয়ে বড় দাবীদার মাসিক আইটি ম্যাগাজিনগুলো। গত প্রায় দুই দশক ধরে এই আইটি প্রকাশনাগুলো তাদের লেখালেখিতে দেশে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প যখন ভালভাবে গড়েও উঠেনি তখনও অনেকেই নিজ উদ্যোগে এগুলো প্রকাশ করে মানুষকে জানান দিয়েছে আইটির বার্তা। কোনরকম ব্যবসায়িক সফলতা ছাড়াও অনেক সাংবাদপত্র শুধু আইটির জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ রেখেছে। কারণ এর পাঠক প্রিয়তা অনেক বেশি। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে জানতে আগ্রহী।
প্রিন্ট মিডিয়া বাংলাদেশের আইটি সমৃদ্ধির জন্য কিভাবে এবং কি কাজ করছে?
ঠেকে ঠেকে শেখা, হাতের অন্দাজে পথ খোঁজা কোনো বুদ্ধিমান জাতির কাজ নয়। আমাদের জনগণ যা বোঝেন তা যদি নীতিনির্ধারকদের বুঝতে সাত-আট বছর লেগে যায়, তাহলে এই জাতির কাছে হতাশা ছাড়া আর কিছুই রইবে না। ১৯৯৩ সালে প্রথম যখন ইমেইল সার্ভিস শুরু হয় তখন দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে বলে এটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক যেমনি ফটোকপিয়ার মেশিন আমদানির বিষয়েও একই অজুহাত দেখিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশের পথ দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে ফ্লাগ নামে বিশ্ব সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সুপার হাইওয়েতে প্রবেশ করতে পারতো কিন্তু বাংলাদেশ এতে অংশ না নিলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ঠিকই যুক্ত হয়। সেই বছরই ২৪ হাজার কোটি টাকার ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ফিরে যায়। বাংলাদেশ বঞ্চিত হয় হাজার কোটি টাকার আউটসোর্সিং কাজের সম্ভাবনা থেকে। এরপর অনেক চড়াইউৎরাই পার হয়ে ২০০৬ সালে প্রায় ১২ বছর পর বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হয়। ৮০ দশক থেকে বাংলাদেশে কম্পিউটার আমদানি হলেও তার মধ্যে আমদানি শুল্ক ছিল। যার কারণে দেশের কম্পিউটারে ব্যবহার প্রসারিত হয়নি। দেশের প্রিন্ট মিডিয়াগুলো এই বিষয়ে বার বার তাদের লেখনির মাধ্যমে কম্পিউটার শুল্ক মুক্ত করার জন্য দাবী জানায়। ৯০-এর দশকেও যদি শুল্কমুক্ত কম্পিউটার বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে আসতো তাহলে আজ ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের গ্লোবাল ইনফরমেশন টেকনোলজি রিপোর্টের নেটওয়ার্ক রেডিন্যাস ১২৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তে নামতো না। ১৯৯৮ সালে দেরি করে হলেও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে শুল্কমুক্ত কম্পিউটার বাজারে আসে। দেশের ডাটা এন্ট্রি, মেডিকেল ট্রান্সস্ক্রিপশন, আউটসোর্সিং, ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, তারবিহীন ইন্টারনেট, মোবাইল ব্রডব্যান্ড বা থ্রিজি, সফটওয়্যার শিল্প, অনলাইন আউটসোর্সিং এসব বিষয়ে জনগণের আশা আকাঙ্খা নীতিনির্ধারকদের কাছে তথা সরকারের কাছে দেশের মিডিয়া গুলো তুলে ধরেছে প্রয়োজন মাফিক।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০১১ সালে ৪০ হাজার টেলিসেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
সফটওয়্যার পাইরেসি রোধে কপি রাইট আইন প্রণয়ন করা হয়।
এই বছর তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়।
২০০৫-০৬ অর্থ বছরে আইসিটি বাজেট দেয়া হয় মাত্র ২২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
জুলাই ২০০৫ সালে বাজেটে ১০শতাংশ হারে কর প্রস্তাব করা হয়। যদিও এটি পরে বাতিল হয়।
আইটি সাংবাদিকতা পেশাটি এখন সাংবাদিকতার অবস্থানের মাপকাঠিতে কোন অবস্থায় আছে?
গত দুই দশকে আইটি সাংবাদিকতা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তার পরেও এখনো এই সাংবাদিকতা অন্য সাংবাদিকদের চেয়ে একটু ভিন্ন। গতানুগতিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে অনেক সাংবাদিক আইটিতে রিপোর্ট করলেও প্রযুক্তিগত বিষয়ে অনেক ভুলভ্রান্তি দেখা যায়। আবার আইটি সাংবাদিকরা প্রযুক্তিগত বিষয়ে ভাল ধারণা থাকলেও রিপোর্টিংয়ের বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরতে অনেক সময় পারে না। এই বিষয়গুলো আমরা নজরে রেখেই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে পিআইবিসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য। তথ্যপ্রযুক্তি সংবাদিকতায় যেহেতু তরুণরাই বেশি কাজ করে তাই অনেক সময় অন্য তথ্যপ্রযুক্তি পেশার দিকে তারা ধাবিত হয়।
|