eBiz HOME 


.: Current Issue :.



March 2010

Volume : 10   Issue : 3
Reg. No. DA 2034

Last Update
22-Mar-2010











free counters

Starting from June'09 Issue





  ই-বিজ || ভিওআইপি'র আরো লাইসেন্স এ মাসে'ই || বর্ষ-১০, সংখ্যা-২

প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

ভিওআইপি'র আরো লাইসেন্স এ মাসে'ই


ভিওআইপি বা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল৷ গত কয়েক বছরে সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোর কল্যাণে বেশ ভালই পরিচিতি লাভ করেছে এই প্রযুক্তিটি৷ তবে সংবাদ মাধ্যমে এর উপস্থিতিতে যতোটা না ছিলো ইতিবাচক প্রযুক্তির বয়ান, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিলো বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির অবৈধ পরিচালনার খবর৷ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশজুড়ে ভিওআইপি'র বিস্তার সত্যিকার অর্থেই ভাবিয়ে তুলেছিলো সরকারগুলোকে৷ ক্ষমতার পালাবদল হলেও 'অবৈধ' বলে চিত্‍কার করা ছাড়া দীর্ঘদিন সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি কেউই৷ অবশেষে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ ভিওআইপি'র বিরুদ্ধে অভিযান ছাড়াও প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে ভিওআইপি'র লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধতা দেয়৷ এরপরও থেমে থাকেনি অবৈধ কার্যক্রম৷ তাই আরো লাইসেন্স প্রদান করে বৈধতার ব্যপ্তি প্রসারণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার৷ এই নিয়ে আমাদের এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন-

সম্প্রতি 'ইন্টারন্যাশনাল লং ডিসট্যান্স টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস(সংশোধিত) ২০০৯' (আইএলডিটিএস) শিরোনামের একটি নীতিমালা মন্ত্রীসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ার পর সর্বমহলে জোর গুঞ্জন উঠেছে ভিওআইপি উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে৷ আদতে তা হচ্ছে না৷ শুধুমাত্র ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি সুবিধা আরো সহজলভ্য ও এই খাত থেকে অধিক রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন কিছু লাইসেন্স প্রদান করা হবে৷ সংশোধিত পলিসিতে এমনই প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে৷

লাইসেন্সিং গাইডলাইন ও নীতিমালাটি ইতোমধ্যেই বিটিআরসি রিভিউ করেছে৷ বর্তমানে তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আছে৷ নীতিমালাটি সংযোজন বিয়োজন হয়ে চূড়ান্তভাবে বিটিআরসি'তে পৌঁছালেই নতুন লাইসেন্স দেয়ার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ, পিএসসি(অবঃ)৷

এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভিওআইপিকে বৈধতা দিতে লাইসেন্স প্রদান করে৷ রাজস্বের আওতায় এনে ভিওআইপি কার্যক্রম চালাতে লাইসেন্স দেয়া হয় বিটিসিএল'সহ ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে৷ তারা উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করা শুরশু করে৷ কিন্তু তারপরও অবৈধ ভিওআইপি'র কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় সরকার প্রতি বছর এখনও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে৷ এই অবৈধ কার্যক্রমগুলোকে রাজস্বের আওতায় এনে লাইসেন্স দিয়ে বৈধতা প্রদানের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে সংশোধিত নীতিমালাটি৷

২০০৭ সালে এ সংক্রান্ত নীতিমালাটি প্রথম প্রণয়ন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার৷ প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে দেশে অবাধ তথ্যের ব্যবহারকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালনা করাই ছিলো ইন্টারন্যাশনাল লং ডিসটেন্স টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস (আইএলডিটিএস)২০০৭' এর মূল উদ্দেশ্য৷ তার আগে ভিওআইপি কার্যক্রম ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ৷ পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এই খাত হতে সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল৷ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এই খাতে অবৈধ ব্যবসা করে রাষ্ট্রকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করেছিল৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বভার গ্রহণকরার পরপর দেশব্যাপী অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করে৷ যার ফলে বাংলাদেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং বিটিআরসি'র নিয়ন্ত্রণাধীন এই অভিযানে র্যাবের দৃঢ় ভূমিকার কারণে প্রায় সব ধরনের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ কিন্তু দেশের সচেতন মহলে তখন জোরালো দাবী ওঠে ভিওআইপি'কে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে বৈধতা দেবার৷ এরই ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে৷ যার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ভিওআইপি'কে বৈধকরণের উদ্দেশ্যে প্রণিত ইন্টারন্যাশনাল লং ডিসটেন্স টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস (আইএলডিটিএস) পলিসি ২০০৭ ঘোষণা করে৷ এই পলিসিতে বাংলাদেশে ভিওআইপি পরিচালনা করতে আইএলডিটিসি পলিসি ২০০৭ নীতিমালাতে তিনস্তর বিশিষ্ট টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷ নতুন প্রস্তাবিত নীতিমালা আগের নীতিমালারই সংশোধিত রূপ৷

ভিওআইপি'র তিনস্তর বিশিষ্ট টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর প্রথমটি হলো আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), দ্বিতীয়টি হলো আন্তঃযোগাযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) এবং তৃতীয়টি হলো ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে৷ মূলত বহির্বিশ্বের সাথে আইজিডবি্লউ অবকাঠামোর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপিত হয় অর্থাত্ আইজিডবি্লউ এর মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ফোন কলগুলো আসা-যাওয়া করে৷ এবং আইসিএক্স অবকাঠামো অভ্যন্তরীণ সেবাদাতাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করার কাজে ব্যবহৃত হয়৷ পূর্বের নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করে৷ এর মাধ্যমে নভোটেল লিমিটেড, বাংলাট্র্যাক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও মির টেলিকম লিমিটেড আইজিডবিহ্মউ, এম এন্ড এইচ টেলিকম ও গেটকো টেলিকমিউনিকেশন আইসিএক্স ও ম্যাংগো টেলিসার্ভিস আইআইজি'র লাইসেন্স পায়৷ এছাড়া তিনটিতে একসাথে কাজ করার লাইসেন্স পায় বিটিসিএল৷

পূর্বের নীতিমালা প্রনয়ণের সময়ই সংশিহ্মষ্ট মহলে লাইসেস্নের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিলো৷ কারণ স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হরে মনোপলি বাজার সৃষ্টি অর্থাত্ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিলো৷ বাস্তবে তা কিছুটা হয়েছেও৷ কিন্তু তার চেয়েও গুরশুত্বপূর্ণ বিষয়, অবৈধ ভিওআইপির সংখ্যা কমেনি৷ ফলে নীতিমালা প্রণয়ণের মূল উদ্দেশ্য রাজস্ব বৃদ্ধি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি৷ সে কারণেই নতুন করে লাইসেন্স দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷ তবে একইসাথে গেটওয়ে রেখে ভিওআইপি উন্মুক্ত করে দেয়া যায় কি-না তা নিয়েও সরকার পর্যায়ে যাচাই বাছাই চলছে৷ এ জন্য একাধিক এমপি, বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিআরসি'র চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷ তবে তার আগে আইএলডিটিএস ২০০৯ বাস্তবায়িত হয়ের এই খাতে সরকারের রাজস্ব কয়েকগুন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

একটি সূত্রে জানা গেছে প্রতিদিন দেশে গড়ে ছয় থেকে সাত কোটি মিনিট আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদান করা হয়৷ অথচ সরকার রাজস্ব পায় মাত্র তিন কোটি মিনিটের৷ বাকি কলগুলো রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে৷ এই অবৈধতা ঠেকাতেই আরো কিছু লাইসেন্স দেয়া হবে৷

আইএসপি'র দাবি
দেশের স্বার্থ রক্ষায় অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার৷ সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়৷ ভিওআইপি লাইসেন্স প্রদান যখন শুরু করা হয় তখন আইএসপিএবি একটি দাবি তোলো লাইসেন্স গ্রহণে তাদের অগ্রাধিকারের কথা বলে৷ আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য ছিলো ভিওআইপি এর লাইসেন্স মোবাইল অপারেটরদের পরিবর্তে আইএসপি'দের দেয়া উচিত৷ কারণ আইএসপিগুলোর কার্যক্রম দেশের সর্বশেষ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত না থাকায় ভিওআইপি কল সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব৷ অন্যদিকে মোবাইল বা পিএসটিএন অপারেটরদের কার্যক্রম দেশের সর্বশেষ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় ভিওআইপি কর্ম পরিধি বৃদ্ধি পাবে৷ ফলে ভিওআইপি এর ব্যবস্থাপনা কাজ জটিল হয়ে পড়বে৷ তাছাড়া আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন মনে করে যাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেলিফোনি সুবিধা প্রদানের অনুমতি আছে তাদের ভিওআইপি লাইসেন্স দেওয়া উচিত হবে না৷ কেবল স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই ভিওআইপি লাইসেন্স পাবার যোগ্য দাবিদার৷ গোটা বিশ্বে ভিওআইপি লাইসেন্স প্রদানে এই নীতি অনুসৃত হচ্ছে৷ আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের এই দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলো বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি এবং বেসিস৷ আইএসপিএবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সহ-সভাপতি আজহার এইচ চৌধুরী৷ অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির, কোষাধ্যক্ষ খন্দকার এ এল আজাদ, যুগ্ন-মহাসচিব এম এ হাকিম, পরিচালক এস এম ইকবাল, টেলিকম বিশেষজ্ঞ জনাব জাকারিয়া স্বপন৷ আরো ছিলেন বেসিসে'র সহ-সভাপতি আহমেদ হাসান জুয়েল এবং বিসিএস সভাপতি জনাব ফয়জুল্লাহ খান প্রমুখ৷ তারা সবাই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবি জানান৷ ফলে বিটিসিএল ছাড়া আর কোনো টেলিফোন অপারেটর ভিওআইপি লাইসেন্স পাননি৷

ক্ষণে ক্ষণে জমে ওঠে ব্যবসা
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটকল) বিরোধী অভিযানের মুখে বাংলাদেশে সীমিত পর্যায়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালিত হলেও পরে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে আশংকাজনকভাবে৷ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)'র সঠিক নজরদারীর অভাবে ক্রমান্বয়ে এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের টেলিকমিউনিকেশন খাত হতে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে চলেছে৷ ইতোপূর্বে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধের অভিযান জোরালোভাবে দৃশ্যমান হলেও বিগত এক বছরে সঠিক পরিকল্পনা এবং নজরদারীর অভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে আমাদের দেশে অবৈধ ভিওআইপি প্রযুক্তির ব্যবহার৷ সাধারণ মানুষ অল্প টাকায় বিদেশে অবস্থানরত প্রিয়জনদের সাথে কথা বলতে পারায় এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা স্বল্প খরচে তাদের প্রিয়জনদের সাথে কথা বলতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশে দ্রুত অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিটিবি'র আয় ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে চলেছে৷ কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক পিএসটিএন অপারেটরও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাতে এগিয়ে রয়েছে বলে শোনা গিয়েছিলো৷ সরকারের সদিচ্ছা এবং কর্মপরিকল্পনা থাকলেও বাংলাদেশের টেলিকম সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি অজ্ঞাত কারণে মাঝে মাঝে কিছু লোক দেখানো অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের অভিযানের আওতায় কেন পড়ছে না সে বিষয়ে সন্দেহের উদ্রেক করে তুলেছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের৷

মূলত বহুল আলোচিত এই ভিওআইপি'র পূর্ণাঙ্গরূপ হলো ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল৷ এই প্রযুক্তিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভয়েস আদান-প্রদান করা হয়৷ ভিওআইপি ভয়েস আদান প্রদানের মাধ্যম হিসেবে বেশি পরিচিতি পেয়েছে, প্রকৃত পক্ষে ভিওআইপি'র মাধ্যমে শুধু ভয়েস নয় একই সাথে ভিডিও, ফ্যাক্স ইত্যাদি আদান প্রদান সম্ভব৷ বিটিটিবি অর্থাত্ পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক বা পিএসটিএন ভয়েস/ কণ্ঠকে সার্কিট-কমিটেড প্রটোকলের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানো হয়৷ অন্যদিকে ভিওআইপি প্রযুক্তিতে ভয়েস বা কণ্ঠকে ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তরিত করে ডাটা প্যাকেট আকারে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়৷ প্রচলিত টেলিফোন নেটওয়ার্কের চেয়ে ভিওআইপি টেলিফোনি কম খরচের হওয়ায় এটি অধিক জনপ্রিয়৷ বাড়তি সুবিধা হিসেবে ভিওআইপি দিচ্ছে মোবিলিটি (মোবাইল ফোন থেকে কল গ্রহণ ও প্রেরণ করা যায়), টেলিফোনি সিস্টেমের সফটওয়্যার সলু্যউশন এবং ভিওআইপি কনফারেন্সিং এর সুবিধা৷ একই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন কাজ করা যায় ফলে ভিওআইপি'র অপারেটিং খরচ কম হওয়ায় এটি সামগ্রিকভাবে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি৷ উন্নত বিশ্বের প্রায় সকল দেশে ভিওআইপি উন্মুক্ত, কিন্তু আমাদের দেশে ভিওআইপি বৈধ না করায় অবৈধ ভিওআইপি'র ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে মাসে হাজার কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়ে চলেছে যা থেকে সরকার কোনরূপ রাজস্ব পায় না৷ বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে প্রবাসীরা বছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কথা বলায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা জমে ওঠে৷

আমাদের দেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বর্তমানে ব্যাপক আকার লাভ করেছে৷ অনেক ক্ষেত্রেই ভিওআইপি হয়ে আসা ফোন কলে কোন নাম্বার প্রদর্শিত না হলেও বেশকিছু মোবাইল ফোনের গ্রাহক অভিযোগ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পিএসটিএন অপারেটরের নাম্বার এক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়ে চলেছে৷ অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ভিওআইপি'র ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিমাসে হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লেনদেন করলেও সরকার রাজস্ব না পাওয়ায় এখাতে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা৷ সঠিক নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশে বৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা চালুর অনুমতি দেয়া হলেও এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না৷ অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে এই অতি মুনাফার অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালিত করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ বাংলাদেশে টেলিকম সেক্টরের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)'র কার্যকর ভূমিকার অভাবে এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ সরকারের পক্ষে টেলিকম সেক্টরের বিভিন্ন লাইসেন্স প্রদান এবং জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের বিশাল অংশ নিজেদের বোনাসের নামে পকেটস্থ করার অভিযোগের তীর রয়েছে বিটিআরসি'র শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে৷ সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে বিটিআরসি'র ভূমিকার কারণে যদি লক্ষ লক্ষ টাকা বোনাসের নামে পকেটস্থ করা হয় তবে সরকারের রাজস্ব আয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ধারাবাহিকতা চালু করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বোনাসের নামে নিজেদের পকেটস্থ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, যা দেশের প্রচলিত নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দৃশ্যমান হবে৷ মাঝে মাঝে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযানে ক্ষুদ্র পর্যায়ের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়িরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে সরঞ্জামসহ ধরা পড়লেও তা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র অংশ এবং শীর্ষ পর্যায়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়িরা এক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে৷ অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ এসেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বিস্তারের৷ প্রকৃত অবস্থা যাই হোক না কেন, ভিওআইপি'র মাধ্যমে বিদেশে টেলিফোন করা এবং বিদেশ থেকে ফোন আসার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়ে চলেছে৷

বিশ্বমন্দার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী সাম্প্রতিক যে বক্তব্য দিয়েছেন সে অনুযায়ী অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধের মাধ্যমে সরকারের হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে৷ ফলে সরকারের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা প্রতিরোধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপি'র হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত৷ এক্ষেত্রে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিটিআরসি এবং র্যাবের যৌথ অভিযানের সাফল্য উত্‍সাহিত করতে পারে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের৷ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে একটি পিএসটিএন অপারেটরসহ অন্য বৃহত্ প্রতিষ্ঠানসমূহে সরকারের নজরদারী বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা৷ প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের সুযোগ থাকায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব যা দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বিশ্ব মন্দার এই কঠিন সময়ে৷ বাস্তবতার এই নিরীখেই বর্তমান সরকার আরো কিছু ভিওআইপি লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

তবু দুয়ার খুলুক
প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন একটি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে৷ সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করে থাকে৷ প্রযুক্তি দ্রুত পরির্তনশীল৷ এরই ধারাবাহিকতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো দেশের জন্য মঙ্গলজনক হলেও আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি৷ সরকারের শীর্ষ পর্যায় হতে প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগ্রহণের দীর্ঘ সূত্রীতা দেশের অগ্রযাত্রাকে করেছে প্রলম্বিত৷ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের অভাবে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনাময় কলসেন্টার কার্যক্রম তেমনভাবে গড়ে উঠতে পারেনি৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কলসেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়ে চলেছে৷ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ বিশেষ করে ভারত এবং শ্রীলংকা কলসেন্টারের সুফল দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে৷ কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কলসেন্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে লেগেছে দীর্ঘ সময়৷ পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে ভিওআইপি'কে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে সক্ষম হয়েছে সেখানে অনিবার্য কারণে বাংলাদেশের ভিওআইপিকে নিষিদ্ধ করে দেশকে প্রযুক্তির সুফল হতে বঞ্চিত করা হয়েছে একটা দীর্ঘ সময়৷ গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভিওআইপিকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অমিত সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷ যদিও এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই গ্রহণ করা উচিত ছিল৷ ভিওআইপিকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে৷ সেই সাথে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়ে উঠবে৷ তবে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার ফলে মনোপলি বাজার তৈরি হয়েছে৷ পাশাপাশি অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রম থেমে নেই৷ এমন দৃষ্টিকোণ থেকেই বর্তমান সরকার নতুন লাইসেন্স প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে৷ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে লাইসেন্স ইসু্য করার চিন্তা করা হচ্ছে৷ যার মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভের সম্ভাবনা তৈরি হবে৷ সেই সাথে দেশের সফটওয়্যার শিল্প এবং ডাটা শিল্পের নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে৷ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন পূর্ব হতেই ভিওআইপি'কে নীতিমালার আওতায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের কাছে প্রদান করলেও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানে দীর্ঘ সূত্রীতা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে ব্যাপকভাবে৷ অনেক দেরি হলেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলতে ভিওআইপি'কে উন্মুক্ত করে দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে৷

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভিওআইপি যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে৷ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি সুবিধার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে দেশে দেশে উন্মুক্ত হয়েছে ভিওআইপি সেবা৷ ইন্টারনেট সেবার মান বৃদ্ধি ও নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে অনেক দেশই ভিওআইপি'র মাধ্যমে সস্তায় কথা বলার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে৷ তথ্যপ্রযুক্তি সবসময় পরিবর্তনশীল৷ বিশ্বব্যাপী যে মাধ্যমের ফলে গণমানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে তা তথ্যপ্রযুক্তি৷ তথ্যপ্রযুক্তির উত্‍কর্ষতায় প্রতিনিয়তই আসছে না প্রযুক্তি ধারণা৷ এসব প্রযুক্তি ধারণাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হচ্ছে প্রযুক্তি সেবা৷ চলমান প্রযুক্তি জগতে যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে মাধ্যমটি বেশ আলোচিত তা হচ্ছে ইন্টারনেট৷ যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধানতম হাতিয়ার হিসেবে ইন্টারনেট বিশ্বব্যাপী বিপ্লব সাধন করতে সক্ষম হয়েছে৷ ইন্টারনেট সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়তই আসছে নানা সেবা৷ এর মধ্যে অন্যতম হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে কথা বলার সুবিধা বা ভিওআইপি৷ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভিওআইপি'র জুড়ি নেই৷ সহজে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলার সুবিধার জন্য বিশ্বব্যাপী ভিওআইপি সেবা উন্মুক্ত হলেও আমাদের দেশে এখনও তা পুরোপুরি উন্মুক্ত হচ্ছে না৷ আমাদের দেশে প্রযুক্তি সম্প্রসারণে যথাযথ নীতিনির্ধারণের অভাবে বিভিন্ন সময় হোঁচট খেয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত৷ আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তি যেখানে পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বার বার পিছিয়ে পড়েছে দেশের প্রযুক্তিখাত৷ অথচ আমাদের পাশর্্ববর্তী দেশগুলো প্রযুক্তিখাতে অনেক এগিয়ে গেছে শুধু যথাযথ প্রযুক্তি নীতি প্রণয়নের ফলে৷ বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে সিদ্ধান্তের ফলে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়েছিল তা হচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ নিতে দেশের সিদ্ধান্তহীনতা৷ তত্‍কালীন সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার ফলে বিশ্বপ্রযুক্তি অঙ্গন থেকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়েছিল৷ যা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভবপর হয়নি৷ অন্যদিকে আমাদের পাশর্্ববর্তী দেশ ভারত অনেক এগিয়ে গেছে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে৷ ভিওআইপি সেবা সম্প্রসারণে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ দেশব্যাপী সস্তায় কথা বলার সেবা সম্প্রসারণে ভিওআইপি উন্মুক্ত করে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার কোন বিকল্প নেই৷ যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ভিওআইপি যে ভূমিকা রাখছে দেশে তার সুফল সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে৷ সরকারের উচিত প্রযুক্তি বিকাশে অন্যান্যবারের মত সিদ্ধান্তহীনতায় না ভুগে দ্রুত ভিওআইপি উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে৷ বিশ্বের অনেক দেশেই ভিওআইপি সুবিধা পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে অনেক দেশ ভিওআইপি উন্মুক্ত করতে যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করতে কাজ করছে৷ এ অবস্থায় আমাদেরও বসে থাকার কোন কারণ নেই৷ সম্প্রতি সরকার ভিওআইপি খাতে লাইসেন্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷ ফলে দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে ভিওআইপি নিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে৷ দেশের প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভিওআইপি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করছেন৷ দেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত দ্রুত ভিওআইপি উন্মুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা৷ বিদেশে বাংলাদেশের প্রচুর মানুষ আছে ফলে ভিওআইপি উন্মুক্ত করে এবং এই সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা গেলে সরকার প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আয় করতে পারে৷ সরকার হয়ত মনে করতে পারে দেশে পুরোপুরি ভিওআইপি উন্মুক্ত হলে টেলিকম খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক কমে যাবে৷ কিন্তু বৈশিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যেসব দেশে ভিওআইপি উন্মুক্ত সেসব দেশে একদিকে মানুষ যেমন প্রযুক্তিসেবা পাচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়৷ শুধু রাজস্ব আয় কমার ভয়ে সরকার যদি ভিওআইপি উন্মুক্ত করা থেকে পিছু হটে তবে আবার দেশ পিছিয়ে পড়বে বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গন থেকে৷ সরকার ভিওআইপি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে কানেক্টিভিটি বাড়িয়ে অর্থনীতিতে বিশেষ গতি সঞ্চার করতে পারে৷ অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন অপারেটর'রা ডাটা সার্ভিস ব্যাপকহারে প্রদান করবে৷ আর ইন্টারনেট নির্ভর কথা বলার প্রযুক্তি সেবা বাজার দখল করবে৷ তাই সরকারের উচিত বিশ্বের প্রযুক্তি অঙ্গনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ভিওআইপি পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ৷

সাক্ষাত্‍কার
অবৈধ কার্যক্রমগুলোকে রাজস্বের আওতায় এনে বৈধতা দেয়া হবে
মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ, পিএসসি (অবঃ)
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)
- ভিওআইপি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে ?
প্রথম কথা হচ্ছে পুরো বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে৷ ভিওআইপি বা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে না৷ কেবলমাত্র এই প্রক্রিয়াতে যুক্ত কার্যক্রম চালানোর জন্য আরো কিছু লাইসেন্স দেয়া হবে৷ ভিওআইপি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন কিছু লাইসেন্স দেয়া হবে৷ এর মূল উদ্দেশ্য রাজস্ব বাড়ানো৷ এই তিন ক্ষেত্রে কাজ করার লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও অনেকে অবৈধভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করে যাচ্ছে৷ অবৈধভাবে পরিচালিত কার্যক্রমগুলোকে রাজস্বের আওতায় আনতেই নতুন করে লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ আশা করি এতে করে গ্রাহক ও সরকার উভয়েই লাভবান হবেন৷
- নতুন লাইসেন্স কবে থেকে দেয়া হতে পারে?
এটি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় গৃহীত হয়েছে৷ ইন্টারন্যাশনাল লং ডিসট্যান্স টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস পলিসি (সংশোধিত) ২০০৯ ইতোমধ্যেই কেবিনেট মিটিংয়ে উপস্থাপিত হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে৷ আমরাও লাইসেন্সিং গাইডলাইন ও পলিসি রিভিউ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি৷ বর্তমানে তা পর্যালোচনার জন্য এ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আছে৷ আরো কিছু প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তা চূড়ান্তভাবে আমাদের হাতে এসে পৌঁছুবে৷ এরপরেই আমরা আবেদন চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেবো৷ তবে আশা করি এ মাসের মধ্যেই সকল অফিসিয়াল কাজ শেষ হবে৷ মার্চ থেকেই নতুন লাইসেন্স দেয়ার কাজ শুরু করা হতে পারে৷ আর এবার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়েও লাইসেন্স দেয়া হবে৷ তবে লাইসেন্স দেয়ার আগে অবশ্যই তার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাই করা হবে৷
- পূর্বের ন্যায় এবারও কি উন্মুক্ত নিলাম পদ্ধতিতে লাইসেন্স দেয়া হবে?
এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ ফলে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না৷ নিলাম কিংবা নির্দিষ্ট ফি উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ উপযুক্ত পদ্ধতিই অবলম্বন করা হবে৷
- নির্দিষ্ট ফি নেয়া হলে তার পরিমাণ কতো হবে?
এটাও এখন বলা যচ্ছে না৷ তবে এটুকু বলতে পারি আগের তুলনায় অনেক কম হবে৷
- নতুন লাইসেন্স দেয়া হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এ সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান কি সরকার অথবা বিটিআরসি'র কাছে আছে?
বর্তমানে বিদ্যমান বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন কোটি মিনিট আন্তর্জাতিক কল আদান প্রদান করে৷ কিন্তু এর অনেকগুন বেশি কল আদান প্রদান করা হচ্ছে অবৈধভাবে৷ ফলে সেগুলোকে রাজস্বের আওতায় আনা গেলে এই খাত থেকে আরো অনেক বেশি রাজস্ব পাওয়া যাবে৷
- এর আগে যে কোম্পানীগুলো লাইসেন্স পেয়েছিলো তারা মোটা অংকের লাইসেন্স ফি দিয়েছিলো৷ লাইসেন্স ফি কমালে তাদের অবস্থা কি হবে? তারা কি নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তদের মতোই একভাবে কাজ করে যাবে?
এটা তো যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন নয়৷ দিনে দিনে সবকিছুই সহজ হবে৷ এই সরকার সব কিছুই সহজ করতে চায়৷ সেজন্যই কম টাকায় নতুন লাইসেন্স দেয়ার পরিকল্পনা কর হয়েছে৷ কাউকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তো সরকার কিংবা বিটিআরসি কাজ করছে না৷ আমাদের মূল লক্ষ্য অবৈধ, অন্যায়টিকে ন্যায়ের পথে এনে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, একইসাথে জনগনকে সুলভে কলিং সুবিধা দেয়া৷ আগের প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্যই নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তদের সাথে কাজ করে যাবে৷ প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে মার্কেটিং করবে প্রতিষ্টানগুলো৷ তাতে যারা সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে পারবে৷
- নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তির পর বিটিসিএল-এর অবস্থান কি হবে?
বিটিআরসি'র কাছে অন্যান্য অপারেটররা যা বিটিসিএল'ও তা-ই৷ তবে বিটিসিএল এর কাছে টেলিকমিউনিকেশনের প্রায় সবগুলো শাখায় কাজ করার অনুমতি আছে৷ ফলে তাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷

মোস্তাফা জব্বার
সভাপতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি
দেশে ভিওআইপি উন্মুক্ত করার দাবী দীর্ঘ দিনের৷ ভিওআইপি উন্মুক্ত করতে লাইসেন্স প্রদানের যে ঘোষণা দিয়েছে আমি এই পদ্ধতির সঙ্গে একমত না৷ হয়তো সরকার ভিওআইপি'র ক্ষেত্রে একচেটিয়া বাজার ভাঙতে অনেক লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কিন্তু আমার মতে কেউ যখন ইন্টারনেট সংযোগ নিতে ফি দেয় সেটাই তার লাইসেন্সের মত হতে পারে৷ এর বাইরে অন্য লাইসেন্স জটিলতা/ বিধিমালা থাকা উচিত না৷ ভিওআইপি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ভিওআইপি গণপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মাত্রই ভিওআইপি সুবিধা নিতে পারে৷ সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য ভিওআইপি ক্ষেত্রে লাইসেন্স উন্মুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছে আমার মনে হয় তা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি৷ সরকার প্রকৃতপক্ষে ভিওআইপি'কে গণমানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাতে লাইসেন্স বাধা তুলে দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা বিস্তৃত করে শর্ত ছাড়াই ভিওআইপি'কে মানুষের হাতে পৌঁছানো যেতে পারে৷

আখতারুজ্জামান মঞ্জু
সভাপতি, আইএসপিএবি
সরকার এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ভিওআইপি নীতিমালা তৈরি করতে পারিনি৷ নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে সরকার ভিওআইপি নিয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করতে পারে৷ সরকার ভিওআইপি লাইসেন্স বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এর পাশাপাশি দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক বাড়ানোর উপর বেশি জোর দিতে হবে৷ দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সুবিধা বাড়াতে পারলে গণমানুষ ভিওআইপি'র সুফল পাবে৷ ফলে একদিকে কলের পরিমাণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ৷ বর্তমানে ভিওআইপি কলের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিমিনিট তিন সেন্ট করে যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তা কমিয়ে প্রতি মিনিট এক থেকে দেড় সেন্ট করতে পারে৷ তাহলে মানুষ আরো বেশি উত্‍সাহিত হবে৷

জিয়া শামসী
সহ-সভাপতি, আইএসপিএবি
বর্তমান সরকারের ভিওআইপি'র লাইসেন্স বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানাই৷ তবে সরকারের গৃহীত অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনেক দেরি করা হয়৷ তাই ভিওআইপি সেবা সম্প্রসারণে সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত৷ ভিওআইপি'র লাইসেন্স বাড়লে বাজারে প্রতিযোগিতা শুরু হবে, যা ভাল দিক হিসেবে বিবেচিত হবে৷ তবে ভিওআইপি'র সকল ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একে চলমান বাজারের উপর তথা এখাতে বিনিয়োগকারীদের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত৷

আব্দুল্লাহ এইচ কাফি
সহ-সভাপতি, এশিয়া-ওশেনিয়া কম্পিউটিং কাউন্সিল
সরকার ভিওআইপি উন্মুক্ত করার অংশ হিসেবে এখাতে লাইসেন্স বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাকে স্বাগত জানাই৷ ভিওআইপি'র পূর্ণাঙ্গ সুবিধা প্রদানে সরকারের উচিত যুগোপযোগী একটি নীতিমালা তৈরি করা৷ শুধু লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে হবে না, সহজে লাইসেন্স প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে৷ প্রযুক্তি সুবিধা সম্প্রসারণে ভিওআইপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে৷ তাই ছোট ছোট উদ্যোক্তাসহ যে কেউ যেন অল্প খরচে খুব সহজেই লাইসেন্স পেতে পারে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷ ভিওআইপি লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করলে একদিকে যেমন উদ্যোক্তা বাড়বে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ মানুষ এর সুফল পাবে৷

এম শোয়েব চৌধুরী
কমনওয়েলথ বিজনেস কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশী উপদেষ্টা ও এইচএসটিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সরকার সম্প্রতি ভিওআইপি'র লাইসেন্স বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷ অনেক দেরিতে হলেও সরকারের এই উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে বিশেষ গতি সঞ্চার করবে৷ ভিওআইপি'র লাইসেন্স বড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে৷ আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কলসেন্টার ও ভিওআইপি উন্মুক্ত করতে অনেক আগে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম৷ সরকার অনেক পরে কলসেন্টার নীতিমালা তৈরি করে লাইসেন্স প্রদান শুরু করে৷ দেশে ভিওআইপি উন্মুক্ত করার দাবী দীর্ঘদিনের৷ সরকার ভিওআইপি লাইসেন্স সহজভাবে প্রদান করলে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে প্রযুক্তি সেবা৷ সরকার যদি বিনিয়োগবান্ধব ভিওআইপি নীতিমালা দ্রুত তৈরি করতে পারে তবে এই খাতে বিনিয়োগকারী যেমন বাড়বে তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারে৷ দেশে যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভিওআইপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে৷ দেশের টেলিকমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগের একটি বড় অংশই বিদেশী বিনিয়োগ৷ ফলে এই খাতে আয়ের একটি বড় অংশই দেশের বাইরে চলে যায়৷ কিন্তু ভিওআইপি খাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হলে দেশের অর্থনীতি অনেক বেশি সুদৃঢ় হবে৷

হাবিবুল্লাহ এন করিম
সভাপতি, বেসিস
সরকার ভিওআইপি খাতে আরো লাইসেন্স প্রদানের যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা খুবই ভাল উদ্যোগ৷ লাইসেন্স সংখ্যা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই এই খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে৷ আগে ভিওআইপি সীমাবদ্ধ থাকায় অনেকেই অবৈধভাবে ভিওআইপি কার্যক্রম পরিচালনা করত৷ ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো অন্যদিকে ভিওআইপি সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা ছিল৷ সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশে ভিওআইপি সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷ লাইসেন্স বাড়ানোর পাশাপাশি ভিওআইপি কলরেট কমাতেও উদ্যোগ নিতে হবে৷ কলরেট কমলে অবৈধ ভিওআইপি অনেকাংশে কমে যাবে, ফলে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বেড়ে যাবে৷ ভিওআইপিকে বৈধ পথে আনতে নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও আরো সহজ নীতিমালা করতে হবে ভিওআইপি পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে৷

এম রেজাউল হাসান
সিইও, রিভ সিস্টেম
ভিওআইপি সম্প্রসারণে সরকারের লাইসেন্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই৷ সরকারের রাজস্ব বাড়াতে নতুন ভিওআইপি লাইসেন্স প্রদান বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে৷ সহজভাবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান সম্ভব হলে অবৈধ ভিওআইপি অনেক কমে যাবে৷ বর্তমানে ভিওআইপি নীতিমালাকে যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে৷ চলমান ভিওআইপি ক্ষেত্রে যে কলরেট বিদ্যমান তা আরো কমানো উচিত৷ তাহলে অবৈধ ভিওআইপি কমে যাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বাড়বে৷ আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও ভিওআইপি কলরেট অনেক কম৷ ফলে ব্যবসায়ীরা বেশিরভাগই বৈধভাবে ভিওআইপি কার্যক্রম পরিচালনা করে৷ সরকারকে কলরেট কমাতে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত৷ লাইসেন্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে৷ ভিওআইপি সেবা'কে যুগোপযোগী করতে পারলে গণমানুষ খুব সহজেই এর সুফল পেতে পারে৷ সরকারের উচিত দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ভিওআইপি সেবা বিস্তৃত করতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা৷

>> ইবিজ প্রতিবেদন

Back   এখন পর্যন্ত পড়েছেন ১২৪ জন পাঠক




eBiz - Online Edition
(c) | All rights reserved
Home | Credit Lines | eBiz Agent | Subscription | F.A.Q. | Ad Rate | Contacts .: site design & developed by :.
AminMehedi@gmail.com