eBiz HOME 


.: Current Issue :.



March 2010

Volume : 10   Issue : 3
Reg. No. DA 2034

Last Update
22-Mar-2010











free counters

Starting from June'09 Issue





  ই-বিজ || ভিওআইপি'র আরো লাইসেন্স এ মাসে'ই || বর্ষ-১০, সংখ্যা-২



দ্রুত বাস্তবায়িত হোক কলসেন্টার ভিলেজ


বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তি নির্ভর যেসব ব্যবসা বিশ্বে বেশ আলোচিত কলসেন্টার তার মধ্যে অন্যতম৷ কলসেন্টার ধারণা উন্মোচিত হওয়ার পর দেশে দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে কলসেন্টার৷ আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত কলসেন্টার ব্যবসায় বিশ্বে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে৷ অথচ বাংলাদেশে কলসেন্টার ব্যবসা একদিকে যেমন অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে অন্যদিকে শুরু করার পরও খুব বেশি সফলতা আসেনি৷ এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অনেক কারণ জড়িত রয়েছে৷ দেশের প্রাইভেট সেক্টরের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল দেশে কলসেন্টার সেবা চালুর৷ এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির দাবী ছিল সবার উপরে৷ বাংলাদেশে কলসেন্টার ব্যবসার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার মধ্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যত্ প্রবাহ, দক্ষ জনশক্তি, একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প ব্যাকআপ না থাকা, যথাযথ নীতিমালা, বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সহায়তার অভাব উল্লেখযোগ্য৷ দেশে কলসেন্টার নীতিমালা না থাকায় বিশ্বব্যাপী কলসেন্টার শুরুর দিকে কলসেন্টার বাজারে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে পারেনি৷ বিশ্ব কলসেন্টার বাজারের সিংহভাগ যখন বিভিন্ন দেশ দখল করতে সক্ষম হয়েছে তখন ২০০৮ সালের প্রথম দিকে সরকার দেশে কলসেন্টারের লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে৷ অনেক দেরিতে লাইসেন্স প্রদান শুরু হলেও কলসেন্টার নীতিমালা ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি সরকারের ছিল না৷ ফলে লাইসেন্স প্রদান করলেও প্রত্যাশিতভাবে দেশে কলসেন্টার কার্যক্রম শুরু হয়নি৷ এর অন্যতম বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দেশে কলসেন্টার ভিলেজের অভাব৷ আমাদের পাশর্্ববর্তী দেশ ভারতে নির্দিষ্ট কলসেন্টার জোন রয়েছে৷ এসব কলসেন্টার জোনে কলসেন্টারবান্ধব সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে৷ আমাদের মত উন্নয়শীল দেশে আলাদা কলসেন্টার জোন স্থাপিত হলে এই খাতে বড় সাফল্য সম্ভব৷ কলসেন্টার জোনে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যত্ সরবরাহ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, দক্ষজনশক্তি তৈরির প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা যেমন নিশ্চিত করা সহজ হবে তেমনি দ্রুত সম্প্রসারিত হবে কলসেন্টার ব্যবসা৷

রপ্তানি প্রক্রিয়াজতকরণ এলাকার (ইপিজেড) মতো করে কল সেন্টারের জন্য আলাদা একটি বিশেষ সুবিধা সম্বলিত এলাকা ভিলেজ তৈরি করতে চায় সরকার৷ ভবিষ্যতে অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে কলসেন্টারকে বিকাশিত করতে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) প্রস্তাবিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১০-২০১৫) বিষয়টি করার প্রস্তাব দিয়েছে৷

নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যত্ এবং অন্যান্য বিশেষ সুবিধা থাকবে প্রস্তাবিত কল সেন্টার ভিলেজে৷ বলা হচ্ছে, কল সেন্টারগুলোকে বাণিজ্যিক ভিত্তি পাইয়ে দিতে এ উদ্যোগ৷ কল সেন্টার ভিলেজের জন্য রাজধানীর কয়েকটি জায়গাতে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে৷ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এসব জায়গা পরিদর্শন করেছেন৷

জানা যায়, প্রস্তাবিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিটিআরসি সব মিলে ৫টি বিষয়ে প্রস্তাব করেছে৷ এর মধ্যে প্রথম দুটি তাদের নিজস্ব ভবনকেন্দ্রিক৷ আগারগাঁওয়ে হবে এই ভবন৷ তৃতীয় ও চতুর্থ প্রস্তাবে বিটিআরসি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মনিটরিংয়ের কাজের কথা বলেছে৷ আর পঞ্চম প্রস্তাবে রাখা হয়েছে কল সেন্টার ভিলেজকে৷ এদিকে চলতি অর্থবছরে কোনো প্রকল্প না থাকায় সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিটিআরসির সমালোচনা করে৷

কল সেন্টার ভিলেজ প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বলেন, এক জায়গায় এক ছাতার তলে সব কল সেন্টারকে আনতে পারলে তাদের বিশেষ বিশেষ সেবা যেমন দেওয়া সহজ হবে; তেমনি এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও কঠিন হবে না৷ তিনি বলেন, রাজধানীর মহাখালী এবং বনানীতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) দুটি জায়গা দেখা হয়েছে৷ তবে আইটি পার্কেও জায়গা দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে অপর একটি সূত্র৷

জিয়া আহমেদ জানান, এমনভাবে কল সেন্টার ভিলেজকে সাজানো হবে যেখানে প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা, বিশেষায়িত লাইব্রেরি, দিনরাত সব সময় যাতে কাজ হতে পারে সে কারণে শিফট বাদলের সময়ে কর্মীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা থাকবে৷ ইতিমধ্যে ওয়াইম্যাক্স কোম্পানি অজ এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে৷ তবে সব কিছুর আগে সরকারের বিশেষ আগ্রহের প্রয়োজন৷

বিশ্বে কল সেন্টারের ব্যবসায় শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে জায়গা করে নেওয়া ভারত এবং পাকিস্তানে এমন কয়েকটি কল সেন্টার ভিলেজ রয়েছে৷

ইতিমধ্যে দেশে অন্তত সাড়ে তিনশ কল সেন্টারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে৷ তবে বর্তমানে কাজ করছে ৫২টির মতো প্রতিষ্ঠান৷ তাছাড়া লাইসেন্স নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে ব্যর্থ কল সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে৷ সে কারণে অনেকে আবার আগ বাড়িয়ে লাইসেন্স ফেরতও দিচ্ছে৷

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসেসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন মোশারফ বলেন, কল সেন্টার ভিলেজের দাবি আমাদের অনেক দিনের৷ এটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন অবৈধ ভিওআইপি'র অভিয়োগ থেকে আমরা মুক্তি পাব, অন্যদিকে আবার সব আয়োজন একসঙ্গে থাকায় অনেক বড় মাত্রার বিদেশী অর্ডার নেওয়া যাবে৷ তিনি বলেন, ভারত থেকে এখন অনেক কল সেন্টার ফিলিপিনের দিকে চলে যাচ্ছে৷ কিন্তু এই বাজারকে আমাদের দিকে ঘুরিয়ে আনাতে এমন একটি উদ্যোগের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি৷ কল সেন্টার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হবে : কল সেন্টার ভিলেজে একটি কল সেন্টার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিটিআরসির৷ তাছাড়া কল সেন্টার ট্রেনিংয়ের নামে কেউ যাতে প্রতারণা না করতে পারে সে জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ একটি সিলেবাস তৈরি হয়েছে৷ তাছাড়া ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করছে বিটিআরসি৷

Back   এখন পর্যন্ত পড়েছেন ৭৪ জন পাঠক




eBiz - Online Edition
(c) | All rights reserved
Home | Credit Lines | eBiz Agent | Subscription | F.A.Q. | Ad Rate | Contacts .: site design & developed by :.
AminMehedi@gmail.com